যে খাবার এবং ওষুধগুলো একসাথে গ্রহণ করা উচিত নয়।

বিবিধ স্বাস্থ্য সংবাদ

ড্রাগ ফুড ইন্টারেকশন কী?

যখন কোন খাবার  খেলে ওষুধের কার্যকারিতা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাধাগ্রস্ত হয় তখন সেটাকেই ড্রাগ ফুড ইন্টারেকশন বলে। এজন্য  কিছু  ওষুধ খালি পেটে গ্রহণ করা উচিত।

১০ টি কমন ড্রাগ ফুড ইন্টারেকশন:

১/ অ্যান্টিবায়োটিক এবং দুগ্ধজাতীয় পণ্য: দুধ একটি আদর্শ খাদ্য। তবে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক যেমন ডক্সিসাইক্লিন এবং সিপ্রোফ্লক্সাসিন গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিকগুলি কোর্স চলাকালীন সময়ে দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হয়। কারণ এই অ্যান্টিবায়োটিক গুলি দুধের ক্যালসিয়ামের সাথে যুক্ত হয় এবং পাকস্থলীতে একটি অদ্রবণীয় এবং শোষণের অনুপযোগী পদার্থে পরিণত হয়।

২/ ওয়ারফারিন এবং ভিটামিন-কে:

ওয়ারফারিন ওষুধ রক্ত জমাট বাধা প্রতিরোধ করে যা থ্রম্বোএমবলিজম, স্ট্রোক প্রতিরোধ এইসব ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়।অন্যদিকে ভিটামিন-কে ক্লটিং ফ্যাক্টর তৈরিতে সাহায্য করে । তাই ওয়ারফারিন সেবন করার সময় ভিটামিন-কে যুক্ত খাবার যেমন পালং শাক, বাঁধাকপি, শালগম এবং অন্যান্য সবুজ শাকসবজি পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।

৩/ সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং ক্যাফেইন:

 কিছু ওষুধ ক্যাফেইন এর বিপাকে বাধা দেয়  ফলে রক্তে ক্যাফেইন এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়।সিপ্রোফ্লক্সাসিন (এক ধরণের অ্যান্টিবায়োটিক) ক্যাফেইন এর বিপাককে বাধা দেয়, ফলে ক্যাফেইন এর প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণ রোগীদের অনিদ্রার কারণ হতে পারে।

৪/ ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার এবং জাম্বুরা: উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য  “ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার” ব্যবহার করা হয়। বাতাবি লেবু রক্তে ওষুধের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দেয় ফলে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য যারা “ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার”নিয়ে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে বাতাবিলেবুর রস খাওয়া ঠিক হবে না।

৫/ইনসুলিন, ওরাল ডায়াবেটিক ওষুধ এবং অ্যালকোহল: অ্যালকোহল এবং অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় ইনসুলিন এবং ওরাল ডায়াবেটিক ওষুধের কার্যকাল বাড়িয়ে দেয়। তখন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যায় ফলে অতিরিক্ত ঘাম, কাঁপুনি, বুক ধড়ফড় করা, অস্বাভাবিক ক্ষুধা, বিভ্রান্তি এমনকি কোমা পর্যন্ত হতে পারে।

৬/ প্যারাসিটামল এবং অ্যালকোহল:

প্যারাসিটামল একটি OTC ওষুধ  যা আমরা ব্যাথা কমাতে ব্যবহার করি।প্যারাসিটামল এবং অ্যালকোহল একত্রে লিভারের বিষক্রিয়া ঘটায়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই হার আরো বেশি।

৭/ স্ট্যাটিন এবং বাতাবিলেবু বা জাম্বুরা:

কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ  হিসেবে স্ট্যাটিন ব্যবহার করা হয়।অতিরিক্ত পরিমাণ বাতাবিলেবুর রস সাইটোক্রোম পি-৪৫০ (P-450) এনজাইমকে প্রতিহত করে। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে স্ট্যাটিন শোষিত হয়। এতে করে স্ট্যাটিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে মাসল টক্সিসিটি (মাংসপেশির বিষক্রিয়া)। 

৮/ অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ এবং আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার: হাইপারথাইরয়েডিজম রোগে এন্টি থাইরয়েড ওষুধ দেয়া হয়।এন্টি থাইরয়েড ওষুধ আমাদের পাকস্থলীতে আয়োডিন শোষণে বাধা দেয়। ফলে দেহে থাইরয়েড হরমোন কম পরিমাণে তৈরি হয়। 

বিভিন্ন ধরনের সি-ফুড যেমন সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য প্রাণী, সামুদ্রিক শ্যাওলা, নানা ধরনের হার্ব এমনকি সামুদ্রিক লবণেও প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন থাকে। তাই এন্টি থাইরয়েড ওষুধ চলাকালীন সময়ে আয়োডিন যুক্ত খাবার  খাওয়ার ফলে বিভিন্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

৯/ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এবং প্রোপ্রানলল: 

প্রোপ্রানলল হচ্ছে এক ধরণের বিটা ব্লকার যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের সাথে প্রোপ্রানলল গ্রহণ করলে রক্তে প্রোপ্রানলল এর পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। ফলে ব্রাডিকার্ডিয়া, হাইপোটেনশন এবং ব্রোঙ্কো কনস্ট্রিকশন এর মত বিভিন্ন রোগের সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

১০/ ডিগক্সিন এবং উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার: ডিগক্সিন ওষুধ হার্ট রেট কমাতে, হৃৎপেশির সংকোচন নিয়ন্ত্রণে এবং শরীরের টিস্যু থেকে তরল নির্গমনে ভূমিকা রাখে। আঁশযুক্ত খাবার  ডিগক্সিন ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। এজন্য খাবার এক ঘন্টা আগে অথবা দুই ঘন্টা পরে ডিগক্সিন খাওয়া উচিত। 

লেখকঃ নূরজাহান হোসেন তটীনি।

বিভাগঃ ফার্মেসি

সেশনঃ ২০১৬-১৭।

Leave a Reply

Your email address will not be published.