কোভিড ১৯ ভ্যাক্সিন: মহামারী মোকাবেলায় মুখ্য হাতিয়ার।

করোনা ফার্মা সংবাদ রোগব্যাধি স্বাস্থ্য সংবাদ

 ভ্যাক্সিন কি?

আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দেহে অনুপ্রবেশকৃত বিভিন্ন অ্যান্টিজেন (যেমন: ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ) ধ্বংস করার জন্য এক ধরণের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন  তৈরি করে যা অ্যান্টিবডি নামে পরিচিত।

মানুষের দেহে প্রায় ১০কোটি ধরণের অ্যান্টিবডি তৈরি উৎপন্ন হতে পারে। এদের প্রতিটি একটি অপরটি থেকে ভিন্ন এবং একেকটি ধরণ কেবল মাত্র একটি নির্দিষ্ট গোত্রের ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর। দেহ যখন কোন এন্টিজেন দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঐ নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের  বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট এন্টিবডি তৈরি করে ঐ ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়াকে প্রতিহত করে, যা একটি সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর যদি ঐ নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন আবার আক্রমণ করে তাহলে আমাদের দেহ তৎক্ষণাত এন্টিবডি তৈরির মাধ্যমে ঐ অ্যান্টিজেন কে প্রতিহত করে। আমাদের দেহকে নির্দিষ্ট কোন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষম করতে হলে আমাদের দেহে সেই রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি করতে হবে। ভ্যাক্সিন হল রোগ সৃষ্টিকারী এসব জীবাণু  বা জীবাণুর নির্যাস বা জীবাণু সৃষ্ট বিষাক্ত পদার্থ কিংবা সংশ্লেষিত বিকল্প পদার্থ থেকে উৎপন্ন যে বস্তু অ্যান্টিজেনের মত আচরণ করে দেহকে অ্যান্টিবডি তৈরিতে উদ্দীপিত করে এবং দেহকে এক বা একাধিক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষম করে তোলে।

কোভিড ১৯ ভ্যাক্সিন কি এবং কিভাবে কাজ করে!

কোভিড ১৯ ভ্যাক্সিন আমাদের দেহকে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষম করে তোলে। করোনা অতিমারির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য কোভিড ১৯ভ্যাক্সিন একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। সাধারণত ভ্যাক্সিন তৈরি বেশ সময় সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু কোভিড ১৯ ভ্যাক্সিন প্রায় ১বছরের মাঝে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এর কৃতিত্ব নতুন এক ধরণের ভ্যাক্সিন প্রযুক্তির, যা mRNA ভ্যাক্সিন নামে পরিচিত।

সাধারণত কোন জীবাণু কে নিষ্ক্রিয় করে বা ঐ জিবাণুর অসংক্রামক একটি অংশ দিয়ে ভ্যাক্সিন তৈরি করা হয়, যা অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু mRNA পদ্ধতিতে mRNA এর মাধ্যমে আমাদের কোষের রাইবোজোম ব্যবহার করে ভাইরাসের অসংক্রামক একটি অংশের প্রতিলিপি তৈরি করা হয়। আমাদের দেহ ঐ অসংক্রামক অংশ কে এন্টিজেন হিসেবে গণ্য করে এন্টিবডি উৎপন্ন করে। 

কোভিড ১৯ ভ্যাক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া 

যেহুতু ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে দেহে ঐ জীবাণুর একটি অংশ প্রবেশ করানো হয় বা প্রতিলিপি তৈরি করা হয়, তাই ভ্যাক্সিন নেওয়ার পর কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সাধারণত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাওয়ার মানে হচ্ছে ভ্যাক্সিন কাজ করছে। কোভিড ১৯ভ্যাক্সিন দেওয়ার পর নিন্মলিখিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে-

-জ্বর 

-মাথা ব্যাথা

-অবসাদ

-ডায়রিয়া

-টিকা দেওয়ার স্থানে ব্যাথা

-মাসল পেইন

অনেক সময় অবস্থা সংকটাপন্ন হতে পারে, তাই ভ্যাক্সিন বা টিকা দেওয়ার পর টিকা দান কেন্দ্রে অন্তত ১৫মিনিট বিশ্রাম নেওয়া উচিত।

কোভিড ১৯ ভ্যাক্সিন নেওয়া কেন জরুরি 

করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার পরও কেউ কেউ এই ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে। এতে অনেকেই টিকা নেওয়ার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন। কিন্তু এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে যে টিকা নেওয়ার পর করোনা সংক্রমিত হলেও তীব্রতা বা জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসাধারণের ৭০ শতাংশকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা গেলে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা সম্ভব। আর এটি অর্জন করা গেলে নতুন করোনাভাইরাস প্রকৃতি থেকে বিনাশ না হলেও তা মানুষের মধ্যে তীব্র রোগ কিংবা মৃত্যুঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারবে না।

Ref:

লিখেছেন:

Nazmus Sakib

Department of Pharmacy (1st year), Mawlana Bhashani Science and Technology university

2 thoughts on “কোভিড ১৯ ভ্যাক্সিন: মহামারী মোকাবেলায় মুখ্য হাতিয়ার।

  1. অসাধারণ ও সুস্পষ্ট বক্তব্য । 😊

Leave a Reply

Your email address will not be published.