বিষন্নতা আত্মহত্যার উদ্দীপক(ডিপ্রেশন সুইসাইডাল ট্রিগার)

বিবিধ মানসিক স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য টিপস

আত্মহত্যা এখন আমাদের দেশে মারাত্মক ব্যাধি হয়ে দাড়িয়েছে।প্রায়ই  আত্মহত্যার খবর আমাদের কানে ভেসে আসে। এই আত্মহত্যার তালিকায় পাওয়া যায় বিভিন্ন বয়সের এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের নাম। 

তরুণদের সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে গেল এক বছরে করোনাকালে দেশে  আত্মহত্যা  করেছে ১৪ হাজার ৪৩৬ জন নারী –পুরুষ। এতে রয়েছে স্কুল, কলেজ,ভার্সিটি থেকে শুরু করে মেডিকেলের শিক্ষার্থী পর্যন্ত। 

এখন কথা হলো, মানুষ কেন এত আত্মহত্যার পথ বেচে নিচ্ছে, বা কেন এই আত্মহত্যার প্রবণতা? এই  আত্মহত্যার অনেক কারণ থাকতে পারে। তার মধ্যে প্রধান একটি কারণ হলো- ডিপ্রেশন। 

ডিপ্রেশন কী?

ডিপ্রেশন হচ্ছে এক ধরনের মানষিক যন্ত্রণা, যা যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ কেননা যুদ্ধে হয়তো বাঁচার লড়াই থাকে কিন্তু মানষিক যন্ত্রনায় আক্রান্ত মানুষ বাঁচার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।এবং ডিপ্রেশন এর সবচেয়ে খারাপ দিক হলো আক্রান্ত রোগী নীরবে নিভূতে আত্মহত্যা করে বসে।

বাংলাদেশে ১৮থেকে ২০ভাগ মানুষ ডিপ্রেশনে আক্রান্ত। তারা অনেক সময় বুঝতেই পারে না যে তারা ডিপ্রেশনে আক্রান্ত। ডিপ্রেশন মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরি করে, যেমন ডায়াবেটিস,হাইপারটেনশন ইত্যাদি। 

ডিপ্রেশনর লক্ষণ- 

ডিপ্রেশন এর মেজর কিছু লক্ষণ রয়েছে। যেমন 

  • উৎসাহ উদ্যম হারিয়ে ফেলা
  • সারাক্ষণ মনমরা হয়ে থাকা
  • রুচি কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া 
  • ঘুম কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া 
  • ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া 
  • কাজ কর্মে শক্তি না পাওয়া 
  • মনোযোগ  হারিয়ে ফেলা
  • মেজাজ কিটকিটে হওয়া
  • নিজেকে নিঃস্ব মনে করা 
  • আত্মহত্যার কথা বলা, ভাবা,চেষ্টা করা 

উপরের লক্ষণ গুলো যদি করো টানা ২থেকে ৩সপ্তাহ ধরে চলে তবে তাকে মেজর ডিপ্রেসিভ রোগী বলা হয় এবং সেই রোগী আত্মহত্যার ঝুঁকিতে আছেন বলা যায়।

চিকিৎসা পদ্ধতি – 

বিভিন্ন ভাবে এটা স্পষ্ট যে ডিপ্রেশনের রোগীরা বাঁচার কোন মানে খুঁজে না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেচে নেয়। তাই ডিপ্রেশনে আক্রান্ত রোগীদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভজ্ঞি বাদ দিয়ে তাদের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে,তাদের সঙ্গে ডিপ্রেশন নিয়ে আলাপ করতে হবে, তাদের চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। 

বিভিন্ন ধরনের এন্টিডিপ্রেসেন্ট ড্রাগ যেমন- সিটালোপ্রাম,এমিট্রিপটাইলিন,এস-সিটালোপ্রাম,মিরটাজাপিন এবং সঠিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে একজন ডিপ্রেশনে আক্রান্ত রোগীকে সহজেই সুস্থ করে তোলা যায়। 

রেফারেন্স ঃ

লিখেছেন:

Md.Nabi Hossain

Department of Pharmacy (5th year), Pabna university of science and technology

Leave a Reply

Your email address will not be published.